বেদুইন এঁটো

on

Treasury_resize_md

দুপুর গড়িয়ে গেছে, টিমের বাকি সবাই ততক্ষণে হোটেলে পৌঁছে গেছে, এতক্ষণে হয়তো তারা স্নান খাওয়া সেরে রেডি, আজ বিকেলের মধ্যে আলো থাকতে থাকতে পৌছতে হবে জর্ডনের মরুভূমি ওয়াদি রামে। একটা টিম আল-খাজানা (ট্রেসারি) অবধি এসেই হাঁপিয়ে গেছে তাদের আর ট্রেক করে আগে যাবার মত শক্তি সামর্থ্য তাদের নেই, বড় জোর পায়ে হেঁটে গ্র্যান্ড থিয়েটার পেরিয়ে রয়্যাল টুম্ব বা আরেকটু এগিয়ে গ্রেট টেম্পল অবধি হয়তো যেতে পারবে। একটা টিম একটু আগে শুরু করেছিল তারা অনেকটাই পৌঁছে গেছে হয়তো, আমি আর দুজন মাঝের টিমে, ঠিক করেছি এল-দের (মনেষ্ট্রি) অবধি যাব। এল-দের পৌঁছনর আগেই যদিও বাকি দুই সঙ্গীকে ছেড়ে আসতে হয়েছে, তারা আর উঠতে পারবেনা জানিয়েছে। আধ ঘণ্টা কার্যত একাই হেঁটে যখন এল-দেরে পৌঁছলাম দেখলাম আগের টিমটা বসে আড্ডা দিচ্ছে। আড্ডা ঠাট্টা সেরে বাকিরা নেমে যাবার সিধান্ত নিল, আমি অর্ণব আর অবিনভ ঠিক করলাম একটু সময় নিয়ে ছবি তুলতে তুলতে লোকজনের সাথে আলাপ করতে করতে নিচে নামব। যেমন ভাবা তেমনি কাজ, যদিও পরের দিকে অর্ণব আমাদের ছেড়ে একটু এগিয়ে গেছে। আমি আর  অবিনভ ততক্ষণে একে অপরের ছবি তুলছি, একটু এদিক ওদিক চড়ে দেখা চলছে। এই করতে করতে কখন গ্রেট টেম্পল অবধি নেমে এসেছি খেয়াল করিনি। ঠিক হল অভিনব টুম্ব এর ছবি তুলবে আর আমি তুলব থিয়েটারের, আর সবশেষে আল-খাজানা এর সামনে বাকি ব্যাটারি আর মেমোরি কার্ড শেষ করে হোটেল ফিরব।

অভিনব এগিয়ে গেছে কিছুটা, সারাদিন হেঁটে আর ওই গরমে গলা শুখিয়েছে বেশ, সঙ্গে আনা জলও শেষ, অগত্যা কিনে খাওয়া ছাড়া উপায় নেই। টেম্পল থেকে থিয়েটারের দিকে যেতে বেশ কয়েকটা ক্যাফে আছে, তারই একটায় গেলাম জল কিনতে, ২ লিটার জল ১ জেডি (ঐ ১০০ টাকার মতো)। জলের বোতল তুলেই আগে ঢগ ঢগ করে খানিকটা জল গিলে এগোলাম জলের দাম মেটাতে।  দোকানদার আর তার মেয়ে বসে দোকানের এক কোনে, লাঞ্চ করছে দুজনে। আমায় দেখে মেয়েটা আগে থেকেই হাসছিল, এগিয়ে যেতে হাসি একটু গাড় হলাম, তার মা জে পাশে আছে সেই খেয়ালই যেন তার নেই। আমি এগিয়ে যেতে নিজেই হাত তুলে ইশারা করে লাঞ্চ অফার করল। প্রথমে মন থেকে না বলতে গিয়েও না বলতে পারলাম, তার দায় আমার নয় বরং ওর নীল চোখের। কাছে যেতে হাতের রুটিতে টম্যাটোর তরকারী মাখিয়ে নিজেই গালে তুলে দিল। তার চোখ রান্না কেমন হয়েছে জানতে চাইছে নাকি আমার হাতে এঁটো খেয়ে কেমন লাগল, ঠিক কি জানতে চাইছে স্পষ্ট করে বলা যায়না। রুটি মুখে নেবার পর আমি প্রায় ঠায় হয়ে দাড়িয়ে, মেয়েটিও। হটাৎ ফোন বেজে উঠলো, ফোনের ওপার থেকে সম্বাবনা রীতিমতো রেগেমেগেই জানালো আমি আর অভিনব বাদে সবাই হোটেলে চলে এসেছে, আমরা যেন জলদি ফিরে আসি। ওর চোখ আর এঁটো রুটি থেকে হোটেল তখনও প্রায় তিন কিলোমিটার দূর। আসছি না যাচ্ছি কি বলব বুঝে ওঠার আগেই মেয়েটি নীরব সম্মতি জানাল – যাও, জানি যেতে হবে। আমি দোকান থেকে বেরিয়ে এলাম, আসার আগে ভালো করে সুখরান উচ্চারণ করতেও আটকে গেল। যাবার পথে পেট্রার আর কোন ছবি তোলা হয়নি, আল-খাজানা এর সামনে নয় নয় করে কয়েকটা, ব্যাটারি আর মেমোরি কার্ড শেষ করা থেকে আমি অনেকদূর, আমায় এখন হোটেল ফিরতে হবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s