ভিয়েতনাম ভিসা । Visa on Arrival

22489887_10204242647863263_6058496538306288078_n
ছবি ঋণ – Nomad Saga

ঘুরতে ভাল লাগে তাই বেড়িয়ে পড়া, সবাইকে সবসময় পাওয়া যায়না (কনভিন্স করা বেশ কঠিন, সময়সাপেক্ষ, আর ধৈর্য্য-সাপেক্ষও), তাই আস্তে আস্তে এই একা একা ঘুরতে যাওয়ার রোগটা দেখা দিয়েছে। দেশে বেশ কিছু জায়গা একাই ঘুরেছি, গত বছর জর্ডন গেছিলাম বটে তবে সেটা ১৭ জনের ব্লগার টীমে, জর্ডন ট্যুরিজম বোর্ড প্রায় জামাই আদরে নিয়ে গেছিল, কখন কোথায় যাব, কোথায় থাকব, ঠিক কি কি দেখব, এমন কি কোনদিন কোন রেস্তরাঁয় খাওয়া হবে আর ঠিক কি কি খাব সব বড্ড আগে থেকে ঠিক করা, নিজে থেকে কিছুই খোঁজার সুযোগ নেই। আম্মানে থেকেও ফিলিস্তিন/প্যালেস্তাইন (আল্–ওয়েদা) রিফিউজি ক্যাম্পে যেতে পারিনি, শুধু আম্মান সিটাডেল থেকে আড় চোখে এক ঝলক দেখে, ক্যামেরার লেন্স ঘুরিয়ে জ্যুম করে তাকে ছুঁতে চাওয়ার বৃথা চেষ্টা করেছি কিছুক্ষন ।
তারপর থেকে ইচ্ছে ছিল, বিদেশ গেলে একা যাব, নিজের মত করে ঘুরব, নিজের প্ল্যানে বেড়াব আর প্রয়োজনে সেই প্ল্যানকে নিয়ে বার বার কাঁটাছেড়া করব। ইউক্রেন, হংকং অনেক কিছু ভেবে শেষে থিতু হই ভিয়েতনামে। ছুটি পাওয়াটা বড় ইস্যু ছিল, তাই বেছে নেওয়া পুজোর সময়টাকে। ফিরে এসে ভাবলাম লিখতে পারলে বেশ হয়, আর তার ফল আমার আগের পোষ্ট। এমন রেসপন্স পাব আশা করিনি, ট্রেলর সবার পছন্দ হওয়ায় চিত্রনাট্য নিয়ে খানিক চিন্তিত, কোথা থেকে শুরু করব, কোথায় শেষ, কিছু কুল কিনারা ঠাওর করতে না পেরে ভাবলাম কাস্টিং পার্টটা সেরে রাখি, সিনেমায় বরং তারপর ঢোকা যাবে।
প্লেনের টিকিট, হোটেল বুকিং এর চেয়েও ক্রিটিকাল কোন দেশের ভিসা প্রাপ্তি, তাই আজ ভিয়েতনাম ভিসা (শুধু ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়েই কথা হবে, বিজনেস ভিসা বা অন্য ঘরানার ভিসা নিয়ে আলোচনাটা আউট অফ্ স্কোপ) দিয়ে শুরু করা যাক। ভারতীয় হিসেবে ভিয়েতনাম যেতে গেলে ভিসা লাগে।
এক, দেশত্যাগের আগে জোগাড় করতে হবে ট্যুরিস্ট ভিসাঃ
দিল্লিতে আছে ভিয়েতনাম এমব্যাসি (http://www.mofa.gov.vn/en) এবং মুম্বাইতে আছে কনস্যুলেট (https://vnconsulate-mumbai.mofa.gov.vn/e…/Pages/default.aspx),সেখানে প্রয়জনীয় দলিল [‘অন্তত ২ টো পেজ খালি আছে’ এবং ‘অন্তত ৬ মাস বৈধতা আছে’ এমন পাসপোর্ট; রিটার্ন (যাওয়া-আসা উভয়) টিকিট (যদি শুধু ভিয়েতনাম ঘুরেই ফিরে আসেন) অথবা অন-ওয়ার্ড টিকিট (যদি ভিয়েতনাম হয়ে বাড়ির ফেরার পরিবর্তে কোন তৃতীয় দেশে যাচ্ছেন, এমন); হোটেল বুকিং এর প্রমান; সঠিক ভাবে ফিল-আপ করা ভিসা ফর্ম; প্রয়জনীয় ভিসা ফি/চার্জ] পাঠিয়ে/জমা দিয়ে (নিজে বা কোন এজেন্টকে দিয়ে) জোগাড় করতে পারেন আপনার ভিসা।
দুই, ভিসা অন আ্যরাইভালঃ (আগে ভাগে দরকার নেই ভিসার, সেদেশে পৌঁছে জোগাড় করতে পারেন ভিসা)

22406457_10204242648303274_1917486136444181230_n
ভিসা আ্যপ্রুভাল লেটার

ভিসা অন আ্যরাইভাল পেতে যা যা লাগবে –
১। ‘অন্তত ২ টো পেজ খালি আছে’ এবং ‘অন্তত ৬ মাস বৈধতা আছে’ এমন পাসপোর্ট।
২। রিটার্ন (যাওয়া-আসা উভয়) টিকিট (যদি শুধু ভিয়েতনাম ঘুরেই ফিরে আসেন) অথবা অন-ওয়ার্ড টিকিট (যদি ভিয়েতনাম হয়ে বাড়ির ফেরার পরিবর্তে কোন তৃতীয় দেশে যাচ্ছেন, এমন)।
৩। হোটেল বুকিং এর প্রমান।
৪। ভিসা আ্যপ্রুভাল লেটার।
৫। ভিসা স্ট্যাম্প ফি/চার্জ (সিঙ্গেল না মাল্টিপেল এন্ট্রি; একমাস না তিন মাসের বৈধতা তার ওপর ফি নির্ধারণ হবে; একমাস – সিঙ্গেল এন্ট্রি ট্যুরিস্ট ভিসা স্ট্যাম্প এর খরচ/চারজ/ফি ২৫ মার্কিন ডলার )
৬। সঠিক ভাবে ফিল-আপ করা ভিসা ফর্ম।
৭। ৪ সেমি × ৬ সেমি (4cm×6cm) সাইজের ছবি (২ কপি)।
[সিঙ্গেল/মাল্টিপেল-এন্ট্রি কি সেই নিয়ে কিছু বিষদে লিখলাম না, জানতে চাইলে কমেন্ট করবেন, সেখানে রিপ্লাই দেব]
মতামতঃ ‘ভিসা অন আ্যরাইভাল’ই শ্রেয় কেননা এ ক্ষেত্রে আগে থেকে টিকিট/হোটেল বুক করার দরকার নেই, একবার ‘ভিসা আ্যপ্রুভাল লেটার’ হাতে পেলে তবেই বাকি খরচে মন দেবেন।

22366786_10204242648943290_6644111540742333364_n
ভিসা ফর্ম ১/২
22406535_10204242648583281_7245226077455654248_n
ভিসা ফর্ম ২/২

বিঃদ্রঃ
১। ভারতীয়দের জন্য ‘ভিসা অন আ্যরাইভাল’ বৈধ কেবল যদি আপনি আকাশপথে ভিয়েতনাম প্রবেশ করেন (থ্রু এয়ারপোর্ট) তবেই, লাওস, কাম্বোডিয়া বা চীন থেকে সড়কপথে ভিয়েতনাম প্রবেশ করতে চাইলে ‘ভিসা অন আ্যরাইভাল’ পাবেন না।
২। ভিসা অন আ্যরাইভাল পেতে এক্সট্রা আপনাকে জোগাড় করতে হবে ‘ভিসা আ্যপ্রুভাল লেটার’।
কিন্তু কি করে জোগাড় করবেন ‘ভিসা আ্যপ্রুভাল লেটার’ ????
খুব সহজ, অনলাইনেই বাড়ি বসে করতে পারবেন এ কাজ। অনেকগুলো ভিয়েতনামি এজেন্সি আছে যারা পয়সার বিনিময়ে আপনার ‘ভিসা আ্যপ্রুভাল লেটার’ জোগাড় করে দেয়।
এক একজনের এক এক রকম চার্জ, তবে আমি বিভিন্ন বাগপ্যাকিং গ্রুপ খুঁজে সবচেয়ে সস্তা ডিল পেয়েছি এই ওয়েবসাইটেঃ http://visadovietnam5usd.com/
মাত্র ৫ মার্কিন ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় ৩২৫/- টাকা মত) ২দিনের মধ্যে আপনকে ই-মেল করে পাঠিয়ে দেয় আপনার ‘ভিসা আ্যপ্রুভাল লেটার’। (পেয়ে গেলে নিয়ে নিন প্রিন্ট–আউট) ।
(জরুরি পরিষেবাও আছে – ২ দিন যদি অপেক্ষা করতে না চান; ১ দিনের মধ্যেই বা ৮-১২ ঘণ্টার মধ্যেই পেতে চান লেটার, তবে মিষ্টি বাড়াতে একটু বেশী গুড় লাগবে, একটু বেশী পেমেন্ট করতে হবে।)
(সন্থাগুলোর কাছে অনেক দেশ থেকেই অনেক ট্যুরিস্ট আবেদন করে আ্যপ্রুভাল লেটার পেতে, তাই একাধিক আবেদন একসাথে প্রসেস করে ওরা, তাই আপনি যে আ্যপ্রুভাল লেটারটা হাতে পাবেন তাতে আপনার নামের পাশে আরও ৪-৫ জনের নাম থাকতে পারে; যদি আপনি গোপনীয়তা বজায় রাখতে চান, তবে সেটাও সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রেও আপনাকে একটু বেশী পয়সা দিতে হবে, তাহলে হাতে পাবেন প্রাইভেট লেটার যাতে থাকবে কেবল আপনার একার নাম।
আমার ক্ষেত্রে, আমি প্রাইভেট লেটার চাওয়ায়, ৫ এর জাগায় ১১ মার্কিনী ডলার পে করতে হয়েছে)
হাতে পেয়েছেন ‘ভিসা আ্যপ্রুভাল লেটার’, প্লেনের টিকিট কাটা শেষ, হোটেল/হোস্টেল রুম বুকিং শেষ, সব দলিল সঙ্গে নিয়ে (সাথে প্রয়জনীয় টাকা-কড়ি ) পৌঁছে যান এয়ারপোর্ট। দলিল দেখিয়ে ক্লিয়ার করুন ইমিগ্রেশান, তারপর প্লেনে চড়ে পারি দিন।
সেদেশের এয়ারপোর্টে নেমে সোজা চলে যান ‘ভিসা আপুন আ্যরাইভাল’ ডেস্কে। ‘ফিল আপ করা ভিসা ফর্ম’ (যদি ফর্ম সঙ্গে আনতে ভুলে যান কোন অসুবিধে নেই, অনেক স্পেয়ার ফর্ম থাকে ওদের থেকে, নিয়ে ওখানে বসেই ফিল করে নিন), ‘ছবি’ (আনতে ভুলে গেলে ওদের রিকোয়েস্ট করলে ওদের ক্যামেরাতে তুলে নেয় ফটো, কিছু ডলারের বিনিময়ে, তবে সঙ্গে রাখাটাই শ্রেয় ),‘ভিসা আ্যপ্রুভাল লেটার’ আর ‘পাসপোর্ট’ কাউন্টারে জমা দিন। ৫-১০ মিনিট বসে অপেক্ষা করুন, ওরা আপনাকে আবার ডেকে নেবে, তখন ভিসা ফি (একমাস বৈধ, সিঙ্গেল এন্ট্রি এর জন্য – ২৫ মার্কিন ডলার ) মিটিয়ে নিয়ে নিন আপনার ভিসা স্ট্যাম্প লাগান পাসপোর্ট টা।
এরপর ক্লিয়ার করুন ইমিগ্রেশান আর তারপর ব্যাগেজ ক্লেম করে বেড়িয়ে আসুন এয়ারপোর্ট থেকে – “ওয়েলকাম টু সোসালিস্ট রিপাবলিক অফ্ ভিয়েতনাম”
এই পোষ্টের সাথে স্যাম্পেল ‘ভিসা স্ট্যাম্প’; স্যাম্পেল ‘ভিসা আ্যপ্রুভাল লেটার’ (এক খণ্ডে) আর স্যাম্পেল ‘ভিসা ফর্ম’ (দুই খণ্ডে) সেলাই করে দিলাম, দেখে নিন
পুনশ্চঃ বানান ভুল হলে মাফ করবেন, বানান ভুল করাটা এক আদি-অনন্ত অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে আমার।
{প্রায় ভুলেই গেছিলাম বলতে, ভিয়েতনামে নেমে এয়ারপোর্টে ‘ভিসা আপুন আ্যরাইভাল ডেস্কে গিয়ে ফর্ম জমা দেওয়া বা ফর্ম ফিলাম করতে যদি মনে হয় কন্ফিডেন্স পাচ্ছেন না, তবে তার সমাধানও আছে|
যে সংস্থাকে দিয়ে ‘ভিসা আ্যপ্রুভাল লেটার’ করাবেন তাদের ‘ভিসা স্ট্যাম্পিং আ্যসিস্টান্স’ পরিষেবা ও আছে |
কয়েক ডলার দিয়ে সেই পরিষেবা কিনতে পারেন, শুধু তাদের আপনার ফ্লাইট ডিটেল্স জানিয়ে রাখুন, এয়ারপোর্টে তাদের লোক থাকবে ডকুমেন্টেশন সামলে দেওয়ার জন্য}

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s