ভিয়েতনামের স্নেক ওয়াইন

IMG_1668.JPG

মেকং ডেল্টা পৌঁছানর পর এদিক ওদিক (কোন কোন দিক সেটা অন্যত্র জানাব) ঘুরে শেষে এক জাগায় পৌঁছালাম, সেখানে একজন লোকাল ভিয়েতনামিজ ছেলে কিকরে ওরা ট্রাডিশনাল পদ্ধতিতে নারকোল ছাড়ায় আর নারকোল কুরতে হয় তার ডেমো দেখাল|
ডেমো শেষে পাশের এক দোকানে যেতেই চোখে পড়ল জার গুলো জার মধ্যে কিছু সাপ রাখা আছে কোন অজানা এক কেমিকেল এ ডোবান|
এক ঝটকায় আমি ভাবলাম হয়তো লোকাল সাপ রাখা আছে ফর্মালিনের মধ্যে, কিন্তু কাছে যেতেই গাইড জানাল এগুলো আসলে ওয়াইন (Wine), ওরা একে Snake Wine বা Viagra Wine বলে ডাকে|
নিজে ঢাকনা খুলে চপস্টিক দিয়ে সাপ বের করে করে দেখালেন যে আসলে সত্যি সাপই রাখা আছে |
দু একটা বড় জারে রাখা আছে যা থেকে যে কেউ চেখে দেখতে পারে বা বসে খেতে পারে, বাকি ছোট যার গুলো কেনার জন্য রাখা ( কেনার ইচ্ছে বিন্দুমাত্র ছিল না তাই দাম কত ছিল সেটা একদম মনে নেই)|
যাইহোক গাইড জানালেন এই wine খেলে শরীর গরম হয় এবং সেক্সয়াল ক্ষমতা বাড়ে, সেজন্যই এর নাম ভায়াগ্রা ওয়াইন পড়েছে |
তারপর হাসি মজা শুরু হলো, জানা গেল এই ওয়াইনের কামালেই নাকি আমাদের দোকানি পাঁচ সন্তানের মা হতে পেরেছেন | তারপর এল কঠিন পালা, গাইড আমাদের সবাইকে চ্যালেঞ্জ করলেন চেখে দেখতে | চারজন মালয়েশিয়ান ছেলে, দুজন অস্ট্রেলিয়ান ছেলে ও একজন অস্ট্রেলিয়ান মেয়ে, দুজন ফিলিপিনো ছেলে মেয়ে, একজন ভারতীয় (এই অধম) ও ছয়জন স্পানিস মেয়ে নিমরাজি হবার পর অবশেষে গ্রূপের অন্তিম মেয়েটি ( স্প্যানিশ) বলল দেখাই যাক চেখে | টাকিলা এর গ্লাস এর মত গ্লাসে তাকে দেওয়া হলো ওয়াইন ভরে, একধোগ গিলতেই তার মুখের এক্সপ্রেশন দেখেই যেন খানিক ঠাওর করা গেল কেমন হতে পারে স্বাদ, মেয়েটিকে সবাই প্রশ্ন করার আগেই তার জবাব এল – একটু কসটা আর বেশ ঝাঁঝাল | পাস থেকে তার বান্ধবীরা টিপ্পনি কাটল, “আজ তোর বয়ফ্রেন্ড পাক্কা মারা যাবে”|
না আমি চেখে দেখিনি, বিষের ভয়ে নয়, সেক্সুয়াল ভয়েও নয়, আসলে খেলে গা গরম হত, আর আমার এমনিও নিয়মিত স্নান না করার বদনাম আছে, তারওপর সাইগনে আমার হোস্টেল ছিল non-ac আর আমার চাইনিজ রুমমেট আরো দুর্বিসহ করেছিল পরিস্থিতি, মেয়ে এত ঘন ঘন হাঁচত যে টেবিল ফ্যান যে একখানা ছিল রুমে সেটাও ঠিক করে চালান যেতনা, তাই আর রিস্ক নিয়নি |
এরপর বাকিরা শপিং এ মন দিল, আমি অগত্যা গাইড এর সাথে আলাপ জমালাম যে সবাই এই ওয়াইন খায় কিনা, সে জানাল সবাই তেমন খায় না, সে এবং তার পরিবারও এসব খায় না, তারপর আমায় জিগ্যেস করল – “তোমাদের ইন্ডিয়া তে এরকম হয়”, আমি উত্তরে “না মানে আমি যা জানি তাতে কারও এমন অভ্যেস নেই, তবে এতবড় দেশ, এত রিচুয়ালস কোথাও কোন গ্রামে বা কোন সম্প্রদায় এমন জিনিসে অভ্যাস রাখলে তা আমার জানা নেই” বলায় সে কেমন বুঝেছি মার্কা মাথা নেড়ে জানাল – এসব চায়না থেকেই এসেছে, হতে পারে মেকং যদি জল আর সাপ বয়ে আনতে পারে চীন থেকে তবে এমন মদ্যাভাস আনতেই পারে |
হোস্টেল ফিরে চাইনিস মেয়েটাকে আর জিগ্যেস করিনি সে এসব খায় কিনা, এমনি অসুস্থ তারপর এসব বললে কি মানে করবে সেই ভয়ে আর…

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s